Bangladesh Air Force

Airmen Training Institute

logo
A total of 66800 trainees have been passed out from Airmen Training Institute, BAF up to 2019 (BAF-65599, Army-350, Navy-427, BGB-21, MODC (Air)-57, Civil (BAF)-72 and Sri Lanka Air Force-272) ||| ২৫ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার সকাল ১০৩০ ঘটিকায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক-এ বিমানসেনা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট এর ভিত্তিপ্রস্তর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্থাপন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এয়ারমেন ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে পাকিস্তানে আটকেপড়া বিমানসেনাগণ ১৯৭৪ সালের প্রথমদিকে দেশে ফিরে যোগ দেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে। তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে তদানীন্তন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার, বীর উত্তম, পিএসসি একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রেনিং কমপ্লেক্স স্থাপনের উদ্দেশ্যে উইং কমান্ডার ওয়ালী খানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় তদানীন্তন ঘাঁটি অধিনায়ক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ জি মাহমুদ, পিএসসি ২৬ জুলাই ১৯৭৫ তারিখ থেকে ট্রেনিং উইং এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা প্রদান করেন।

যেহেতু প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রনের দায়িত্বভার শুরু থেকেই ঘাঁটি অধিনায়কের অধীনস্থ ছিল তাই ঘাঁটির অন্যান্য শাখাগুলির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় ট্রেনিং উইং। ১৯৭৫ সালে তদানীন্তন চট্টগ্রাম বে ফিসিং ইন্ডাস্ট্রিজ সংলগ্ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্থাপিত ০৪ টি নিসান হাট এ ট্রেনিং উইং এর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে সুবিশাল ভবন নিয়ে বর্তমান স্থানে স্থায়ীভাবে স্থাপিত হয় ট্রেনিং উইং কমপ্লেক্স।

প্রতিষ্ঠালগ্নে ট্রেনিং উইং এর আওতাধীন ৩ টি স্কোয়াড্রন যথা সি এন্ড ই ট্রেনিং স্কোয়াড্রন, এডমিন ট্রেনিং স্কোয়াড্রন ও এডুকেশন ট্রেনিং স্কোয়াড্রন কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে এ্যারো ইঞ্জিনিয়ারিং ট্রেনিং স্কোয়াড্রন এতে যোগ দেয়। উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নবীন বিমানসেনাদের প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ যা এখন রিক্রুট’স ট্রেনিং স্কুল (আরটিএস) এবং গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ও পেশাগত প্রশিক্ষণ যা এখন অফিসার্স ট্রেনিং স্কুল (ওটিএস) এ চলমান তা ট্রেনিং উইং এর উপর ন্যস্ত ছিল। উল্লেখ্য, ঐ দুটি প্রশিক্ষণ স্কুল যথাক্রমে ১৯৮১ ও ১৯৮৫ সালে স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে আত্মপ্রকাশ করে। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে হাতেগোনা কয়েকটি কোর্স নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে, পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়ে এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সর্ববৃহৎ প্রশিক্ষন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে প্রি ট্রেড এ্যালোকেশন ট্রেনিং (PTAT),ট্রেড ট্রেনিং বেসিক (TTB),ট্রেড ট্রেনিং এ্যাডভান্স (TTA), শিক্ষা প্রশিক্ষক ও সাইফার এ্যাসিস্টেন্ট বেসিক কোর্স, সিনিয়র ট্রেড কোর্স, ম্যানেজমেন্ট কোর্স, বেসিক ইন্সট্রাক্টর’স কোর্স (BIC), স্পেশাল প্রভোস্ট কোর্স, শিক্ষা প্রশিক্ষক রিফ্রেশার কোর্স ও জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার্স কোর্স নিয়মিতভাবে চালু রয়েছে।

বর্তমানে ট্রেনিং উইং শুধু বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দানে সীমাবদ্ধ নয় বরং সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণেও এর ব্যাপ্তি। অধিকন্তু, এই প্রতিষ্ঠান আজ দেশের পরিমন্ডল পেরিয়ে শ্রীলঙ্কা বিমান বাহিনীর ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত মোট ২৪৭ জন প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণের গর্বিত অংশীদার। প্রশিক্ষণার্থীদের সর্বোত্তম প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে এই প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে একদল সুদক্ষ ও চৌকষ কর্মকর্তা। যাদের সুদক্ষ নির্দেশনায় এই প্রতিষ্ঠান তার মূলমন্ত্র “জ্ঞান ও শৃঙ্খলা উন্নতির পূর্বশর্ত” এতে দীক্ষিত হয়ে আধুনিক ও উন্নতমানের প্রশিক্ষণ প্রদানে বদ্ধপরিকর। এরই ধারাবাহিকতায় আর্ন্তজাতিক মানের প্রশিক্ষণের নিমিত্তে সম্প্রতি ইউরোপিয়ান এভিয়েশন সেফটি এজেন্সী (EASA) কর্তৃক অনুমোদিত সিলেবাস এই প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ যে, ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানকে একটি স্বতন্ত্র বিমানসেনা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট (Airmen Training Institute,BAF) হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি সুবিশাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স নির্মানের কাজ বর্তমানে চলমান।