Back to Home


BAFWWA

১।    সূচনাঃ

      মহান স্রষ্টার অমোঘ বিধান তার সৃষ্টির অর্ধেক নর আর অর্ধেক নারী । এ বিশ্ব যা কিছু আজ সূচিত হয়েছে মহিমান্বিত ও কল্যাণ রূপে তা নর-নারীর যৌথ অবদানেই । এদের কোন একটিকে উপেক্ষা করে অন্যটির কল্যাণ শুধু বৃথাই নয় বরং উপেক্ষা করা হয় সৃষ্টির অমোঘ বিধানকে । নারী পুরুষের যৌথ অংশীদারিত্বের ফলেই আজকের এই সামাজিক উৎকর্ষতা । আর এই ধারাবাহিকতায় ১০ জুন ১৯৭৭ সালে বিমান বাহিনীর সামরিক ও অসামরিক সদস্যসহ সর্বস্তরের সদস্যদের পরিবার বর্গের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনীতিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, আত্ম-কর্মসংস্থান এবং নানাবিধ জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি তথা “বাফওয়া” আত্মপ্রকাশ করে । সে দিনের ছোট্ট বাফওয়া হাটি হাটি পা-পা করে আজকে বাফওয়া আঞ্চলিক শাখা বাশার, জহুর, মতিউর, পাহাড়কাঞ্চনপুর ও কুর্মিটোলা এবং বগুড়া, মৌলভীবাজার, শমশেরনগর ও লালমনিরহাট উপ-আঞ্চলিক শাখা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে ।


২।     বাফওয়া পরিচালনা পরিষদঃ

          সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি যেহেতু আজ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক শাখায় রুপ লাভ করেছে এ জন্য এর বলিষ্ঠ পরিচালনা পরিষদ গঠন অপরিহার্য, তারই ধারাবাহিকতায় বাফওয়া কেন্দ্রীয় পরিষদ এবং আঞ্চলিক পরিষেদর কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। একজন সভানেত্রীর নেতৃত্বে তিনজন সহ-সভানেত্রী, একজন সম্পাদিকা, একজন সহ-সম্পাদিকা, পাঁচ জন সদস্যা, একজন সিনিয়র লিয়াজো অফিসার, একজন লিয়াজো অফিসার এবং ১৪ জন সদস্য/সদস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ পরিচালিত হয়। কেন্দ্রীয় পরিষদে মাননীয় বিমান বাহিনী প্রধানের পত্নী সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বাফওয়ার বর্তমান সভানেত্রী ইয়াসমিন জামান, তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়ে শুধু মাত্র ধারাবাহিকতাই রক্ষা করেননি উপরন্ত বিভিন্ন নতুন ও যুগোপযুগী কার্যক্রমের মাধ্যমে এতে যোগ করেছেন নতুন মাত্রা, সূচিত করেছেন নতুন অধ্যায়। কেন্দ্রীয় পরিষদের ন্যায় আঞ্চলিক শাখা ও উপ-আঞ্চলিক শাখায় অনুরুপ কার্যকরী পরিষদ গঠিত হয়েছে। বাফওয়ার যাবতীয় কর্মকাণ্ড কার্যকরী পরিষদের সদস্য/সদস্যাদের সুপারিশ ও সিদ্ধান্তক্রমেই হয়ে থাকে।


৩ ।     বাফওয়ার উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রমঃ

         উন্মেষ লগ্ন থেকে বাফওয়া বিমান বাহিনীর সকল সদস্যর পারিবারিক ও সামাজিক জীবন গড়ার প্রচেষ্টায় এবং বিমান বাহিনী সহ দেশের জন্য একটি সুশিক্ষিত, আদর্শ ও সাবলম্বী সমাজ তথা জাতি প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখে চলেছে। তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে আজ নারী-পুরুষ সকলেরই সমানভাবে এগিয়ে আসা উচিত। আর তাই বর্তমান অর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে পারিবারিক জীবনের মান উন্নয়নে মহিলাদেরকেও সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তারই ধারাবাহিকতায় বাফওয়া সূচীত বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচির মাধ্যমে স্বনির্ভরতা ও আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন এবং বিভিন্ন প্রকার কল্যাণমুখী কর্মকান্ডকে সম্প্রসারিত করার প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে।


৪।     উন্নয়ন ও কল্যাণে বাফওয়াঃ

         আমাদের দেশে নারীর ভূমিকা যে প্রেক্ষাপট তা বিশ্বের উন্নত দেশগুলো থেকে ভিন্নতর। দেশের ক্রমবিকাশমান অর্থনীতিতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বর্তমানে মেয়েরা নিজেদের অবস্থান, দক্ষতা, যোগ্যতা এবং কর্মদক্ষতা সম্পর্কে অনেক সচেতন। বিশেষ করে তাদের মধ্যেও যে সাহস, মেধা ও শ্রমশক্তি আছে এবং যাকে কাজে লাগিয়ে সমাজ তথা দেশকে অনেক দূরে এগিয়ে নেয়া সম্ভব তা প্রমান করেছে আমাদের দেশের মেয়েরা। ব্যাপক অর্থে কাজের ক্ষেত্রে আত্ম-কর্মসংস্থান সে সুযোগ ত্বরান্বিত করেছে। অত্যন্ত আশার কথা আমাদের নারী সমাজের বিকাশ ঘটছে অত্যন্ত দ্রুত। নারী ক্রমেই হয়ে উঠেছে স্বাবলম্বী, অর্থনৈকিতভাবে কর্মক্ষেত্রে বাড়ছে তার অংশ গ্রহণ, বাড়ছে নারী শিক্ষার হার। ফলে প্রায় সর্বক্ষেত্রে তাদের দীপ্ত পদচারণা লক্ষ্য করা যায়। আজ নারী তার মেধা, সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে আগ্রহী, ফলে সে নিজের পরিচয়ে পরিচিত হচ্ছে। প্রতিটি নারীর মধ্যেই সুপ্ত বাসনা থাকে নিজে কিছু করার এবং স্বাবলম্বী হবার। কিন্তু সংসারের পিছনে সময় ব্যয়, আর্থিক অস্বচ্ছলতা, সঠিক দিক নির্দেশনা ও আত্মবিশ্বাসের অভাবে স্বাবলম্বী হবার ইচ্ছাটি কেবল মনের গভীরেই থেকে যায়। আর বাফওয়া সেই ইচ্ছাটিকে বাস্তবে রূপ দিতে চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রয়াস।


       ক।     সুদক্ষ স্বনির্ভর নারী সমাজঃ

             বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ মানুষকে আত্মনির্ভরশীল ও আত্মবিশ্বাসী করে। বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বৃত্তিমূলক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই নারী উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাফওয়া বিমান বাহিনীতে কর্মরত সামরিক ও অসামরিক কর্মচারীদের পত্নী এবং কন্যাদের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, যেমন কাটিং, নিটিং, এমব্রয়ডারি, কনফেক্শনারী, বিউটি পার্লার এবং আধুনিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করে চলেছে। ফলে তারা আত্মনির্ভরশীল এবং বাংলাদেশের নারী সমাজকেও উন্নয়নের দিকে ধাবিত হতে সহায়তা করেছে। ২০০২ হতে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে ২৬৯৯ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছেঃ

কোর্সের নাম প্রশিক্ষণার্থীদের সংখ্যা
কাটিং ২৮৬
নিটিং ৯৬
জুনিয়র এমব্রয়ডারি ৩৩৪
অ্যাডভান্স এমব্রয়ডারি ২৪৬
নাচ-গান ৫৩৬
ড্রইং ৩৮২
মোম ও সু'পীস ১৮৬
কনফেক্শনারী এবং রান্না ২০৮
কম্পিউটার ৪২৫

       খ।     চিকিৎসা সেবা প্রদানঃ

            বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে কর্মরত সদস্যদের পত্নীদেরকে পরিবার পরিকল্পনায় উদ্ভোদ্ধ করার লক্ষে বাফওয়া বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে থাকে । তাছাড়া অসামরিক কর্মচারীদের পত্নী ও সন্তানদের সুস্বাস্থ রক্ষার্থে বাফওয়ার নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর প্রত্যেক ঘাঁটিতে একজন করে অসামরিক চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে । এছাড়াও শিশুদের সুস্বাস্থ রক্ষার্থে বাফওয়া পরিচালিত বিভিন্ন টিকা দান কর্মসূচিতে শিশুদের বিভিন্ন রোগের টিকা দান করা হয়ে থাকে । ২০০২ হতে ২০০৫ পর্যন্ত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ঔষধ ক্রয়ের জন্য ৫৩,৭৫,০০০. ০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে ।


       গ।     সেবা ও প্রশিক্ষণ সামগ্রী প্রদানঃ

            বাফওয়া প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রকমের সেবা ও প্রশিক্ষণমূলক সামগ্রী প্রদানের ধারা অব্যাহত রেখে চলেছে । বাফওয়া পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এমব্রয়ডারি মেশিনসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করে আসছে । এছাড়া এমআই রুম সমূহে মূল্যবান ঔষধ সামগ্রী সংরক্ষণের জন্য রেফ্রিজারেটর এবং রোগীদের চিত্তবিনোদনের জন্য টেলিভিশন প্রদান করেছে ।


       ঘ।     মানবিক সাহায্য প্রদানঃ

            বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক / অসামরিক কর্মচারীরা বিভিন্ন সময়ে নানাবিদ কারণে আর্থিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন । যার ফলশ্রুতিতে তারা সন্তানদের লেখা-পড়া , চিকিৎসা , ছেলেমেয়েদের বিবাহকার্য যথা সময়ে সম্পাদন করতে পারেন না । এরকম এক দুর্বিসহ সময়ে বাফওয়া পাশে এসে দাঁড়ায় নিঃশর্ত আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে, সম্প্রসারিত করে মানবতার হাত । ২০০২ হতে ২০০৫ পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য বাবদ ১,৫৬,৬৭০০০.০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে ।


৫।     জাতীয় শিক্ষায় বাফওয়াঃ

          ক। মেধাবৃত্তিঃ  বিমান বাহিনী সদস্যগনের সন্তানেরা বি এ এফ শাহীন কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ণরত রয়েছে । বিমান বাহিনীর সকল শ্রেণীর পরিবারের স্কুলের ছাত্র-ছাএীদের মেধা মনন বৃ্দ্ধিতে এবং স্কুলের সার্বিক উন্নয়ণকল্পে কেন্দ্রীয় বাফওয়া কর্তৃক সব সময় আর্থিক সাহায্যসহ মেধাবী ছাত্র-ছাএীদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয় । এ সমস্ত ছাত্র-ছাএীদের উৎসাহিত করা এবং আর্থিকভাবে সহায়তাদানের লক্ষ্যে বি এ এফ শাহীন কলেজগুলোর ৪র্থ শ্রেণী হতে দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রত্যেক ক্লাশের দু’জন করে গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাএীদের জন্য এককালীন বৃত্তির ব্যবস্থা করে আসছে ।
       এছাড়াও ৫ম ও ৮ম শ্রেণীতে বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র-ছাএীদের জন্য রয়েছে সাধারণ বৃত্তির ব্যবস্থা । বিমান বাহিনীর সদস্যদের সন্তানাদি ও শাহীন কলেজের ছাত্র-ছাএীদেরকে অনুপ্রানিত করার লক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান প্রাপ্ত প্রত্যেককে বাফওয়া থেকে এককালীন বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে । উপরন্ত বিশেষ ক্ষেত্রে বাফাওয়া বিমান বাহিনীর বাহিরেও গরীব ও অসহায় পরিবারের মেধাবি ছাত্র-ছাএীদেরকে পড়াশুনার জন্য আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে ।
       খ । গোল্ডেন ঈগল নার্সারীঃ   বিমান বাহিনীতে কর্মরত সদস্যদের সন্তানদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে চারটি গোল্ডেন ঈগল নার্সারী স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয় । যার মাধ্যমে বিমান বাহিনীর সদস্যদের পাশা পাশি সামরিক/অসামরিক সকলশ্রেণীর জনসাধারনের কোমলমতি শিশুরা আধুনিক, যুগোপযোগী শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে যা জাতীয় শিক্ষায় কিছুটা হলেও অবদান রেখে চলেছে ।


৬ ।       প্রাকৃতিক দূর্যোগে বাফওয়াঃ

              বাফওয়া নিয়মিত বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা উন্নয়ণমূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি বিভিন্নমূখী কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে । বাফওয়া জাতির প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় দুস্থ মানবতার সেবায় ও দূর্যোগকবলিত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, প্রসারিত করেছে সহানুভুতির হাত । বাফাওয়া বিভিন্ন সময়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে খাদ্য, অর্থ, ঔষধ বিতরণ এবং প্রবল শীতে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র প্রাদান করে জাতীয় পর্যায়ে রেখেছে প্রশংসনীয় ভূমিকা ।


৭ ।       শিল্প-সংস্কৃতিতে বাফওয়াঃ

        বাংলার ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে বুকে লালন করে সুনিপুণ সুকুমারচর্চার মাধ্যমে বাফওয়া দেশীয় শিল্প-সংস্কৃতিকে সংরক্ষনের পাশাপাশি ভবিষ্যত সুনাগরিক গড়ে তুলতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে । নাচ-গান, কবিতা প্রভৃতি প্রশিক্ষন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে এ কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে । বাফওয়া প্রশিক্ষন প্রাপ্ত সদস্যদের দ্বারা উৎপাদিত বিভিন্ন রকমের কারু ও হস্থশিল্পের পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনের জন্য বিভিন্ন ঘাঁটি এলাকায় প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় । এধরনের কারু ও হস্তশিল্প প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে বাফওয়া যেমন হস্তশিল্পজাত দ্রব্যসামগ্রী সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে পেরেছে, তেমনি এর মাধ্যমে নানা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের দেশজপণ্য সামগ্রী বিপনণের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পেরেছে, যা সত্যই প্রশংসার দাবিদার । আধুনিক শহরের ভিড়ে বাংলার ঐতিহ্যময় কারু ও হস্তশিল্পকে সংরক্ষন, প্রদর্শন এবং আধুনিকীরণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, যা বাফওয়াকে দিয়েছে বিপুল আর্থিক সহায়তা । বাফওয়া বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্যময় কারু ও হস্তশিল্প পৌছে দিচ্ছে নগর জীবনের দাড়প্রান্তে ।


৮ ।       অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাফওয়াঃ

              বাফওয়া প্রতিবছর আর্তমানবতার সেবায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করে থাকে যা মূলতঃ বাফওয়া বিভিন্ন প্রকল্প থেকে অর্জিত মুনাফা থেকে মেটানো হয় । সংগঠনের আর্থিক বুনিয়াদ সুদৃঢ় না হলে কল্যাণকর কোন চেষ্টাই বাস্তবায়ন সম্ভব হয়না । তা্ই আর্থিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে সংগঠনটি প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলেছে বিপুল সম্ভাবনার দিকে । দুগ্ধখামার, পশুপালন প্রকল্প, হস্থশিল্প প্রস্তুত করণ, বেকারী সামগ্রী প্রস্তুতকরণ, জেনারেল স্টোর প্রভৃতি প্রকল্পের মাধ্যমে বাফওয়া তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা অব্যাহত রেখেছে ।


৯।       কর্মসংস্থানে বাফওয়াঃ

              বেকার সমস্যা দূরীকরণে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে বাফওয়া তার কর্মব্যাপ্তির সহায়তা ছাড়াও জাতীয় পারিমন্ডলে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে পৌছে দিয়েছে নতুন উদ্দীপনায় । বাফওয়া পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রশিক্ষক, সুপারভা্ইজারসহ বিভিন্ন পেশায় প্রায় এক হাজার মহিলা-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ।


১০।       বৃক্ষ রোপনঃ

             জাতীয় বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর সঙ্গে একাত্ততা ঘোষনা করে প্রতি বছর বাফওয়া সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব তহবিল থেকে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পরিচালনা করে থাকে । এ ধরনের কর্মসূচী বিমান বাহিনীর প্রতিটি ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনায় পরিচালিত হয় ।


        একাগ্র চিত্ত, শ্রমনিষ্ঠ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে একটা কল্যাণমুখী, গতিশীল ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভীত সমৃদ্ধ বাফওয়া গড়ার লক্ষ্যে বাফওয়া পরিবারের সদস্যগণ আন্তরিকভবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । সেবা, সৌহার্দ্য ও সংস্কৃতির মুলমন্ত্রে উজ্জীবিত বাফওয়ার প্রতিটি কর্মকান্ডে আন্তরিকতা এবং পারস্পারিক সমঝোতা দ্বারা এসকল অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন ঘটছে উত্তরোত্তর । সত্যিকার অর্থেই সেবা ও কল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসাবে বাফওয়ার ভাবমুর্তিকে অক্ষুন্ন রেখেছে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা । সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর আন্তরিকতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে বাফওয়া তার সোনালী স্বপ্ন বাস্তবায়ণ করবে আর সৌকর্য্যকে আরও সুউচ্চে তুলে ধরবে বলে আমরা স্বপ্ন দেখি ।